পিতৃদেবের প্রতি প্রনাম মন্ত্র:-
পিতা স্বর্গ পিতা ধর্ম সৃষ্টিকর্তা পিতা।
পিতার প্রীতিতে তৃপ্ত সকল দেবতা।।
পিতার কারনে সবে আসে ধরাধাম।
জানাই পিতার পদে স্বভক্তি প্রনাম।।
আজন্ম শুভানূধ্যায়ী হে পরম কল্যাণকামী পিতৃদেব তোমার বাঞ্চিত আশীর্বাদ বর্ষণ করে আমার স্বশ্রদ্ধেয় প্রণাম তুমি গ্রহণ কর |
(সংকলক:- কৃত্তিবাস ঠাকুর)
মাতৃদেবীর প্রতি প্রনাম মন্ত্র :-
জননী জঠর যেন পার্থিব মৃত্তিকা।
ধরিত্রী ধারিকাসম জগৎ পালিকা।।
বেদনা হারিনী মাতা দূর্গতিনাশিনী।
নয়ন মুদিয়া ভাবি তোমার শ্রীচরণ দুখানি।।
যাহার অসীম সাধনায় ও অপার স্নেহত্যাগ তিতিক্ষায় এই ধরাধামে আগমন, জীবন ধারন, বেদনা হারিনী, দূর্গতি নাশিনী মাতৃদেবী তোমার রাতুল চরণে আমার স্বভক্তি পূর্ণ প্রণাম | হে করুণাময়ী জীবন ধাত্রী, সাক্ষাৎ দেবী, তোমার বাঞ্চিত শুভ আশীর্বাদ বর্ষণ কর |
(সংকলক:- কৃত্তিবাস ঠাকুর)
শ্রীগুরুদেবের প্রতি প্রনাম মন্ত্র :-
শূন্যকার মূর্তিযার ব্যাপ্ত যিনি চরাচর।
তার মর্ম যে জানাল প্রণমী চরণে তার।
জ্ঞানের আলোক দিয়ে দূর করে অন্ধকার।
দিব্য দৃষ্টি দেন যিনি প্রণমী চরণে তার।
আমার কারনে যিনি ধরিলেন নরদেহ।
মানব স্বভাব ধরি করিছেন কত স্নেহ।
জানা কি অজানা মোর বিপদ আপদ রাশি।
নাশেন অলক্ষ্যে থাকি করুনায় ভালবাসি।
চিত্তের গুহায় মম জীবাত্মা ঘুমায়ে রয়।
তাহারে জাগাতে তত্ত্ব শিখালেন দয়াময়।।
পরম বান্ধব সেই পরমআত্মার সম।
নমঃ গুরু (গুরুদেবের নাম ) নমঃ হে পুরুষোত্তম।।
তাহার অর্ধাঙ্গিনী যিমি মাতা (গুরুমাতার নাম) কৃপাময়ী।
করুণা মাগিয়া তার চরণে প্রনত হই।।
(সংকলক:- কৃত্তিবাস ঠাকুর)
শ্রী হরিভক্তের পূজামন্ত্র :-
হে আমার প্রাণ প্রিয় হরিভক্তগন।
করজোড়ে বন্ধি আমি সবার চরণ।।
আর নামি হতে নাম বড় সর্বশাস্ত্রে কয়।
তার চেয়ে ভক্ত বড় হরিগুরু কয়।।
লীলামৃতে আছে তাহার জলন্ত প্রমান।
গোলককে সেবিলে তুষ্ট হয় ভগবান।
হরি আর হরিভক্ত এক দেহমন।
তার সাক্ষী দশরথ আর হীরামন।।
তাদের প্রহার চিহ্ন শ্রীহরি ধরিল।
ভক্ত আর ভগবান অভিন্ন হইল।।
ভক্ত কৃপা না হইলে হরি নাহি মিলে।
হরিভক্তি লাভ হয় ভক্ত কৃপা হলে।।
ভক্তিহীন শক্তিহীন আমি অভাজন।
নিজগুনে কৃপা কর ওহে ভক্তগন।।
ভক্ত কৃপা ভিন্নভাবে গতিনাহি আর।
হরিভক্ত পদরজ: কামনা আমার।।
দিবানিশি যেন আমি ভক্তপদ স্মরি।
ভক্তপদ শিরে ধরি আমি যেন মরি।।
ভক্ত পদরজ: আর পদধৌত জল।
নিদান কালেতে যেন হয়গো সম্বল।।
আশীর্বাদ কর সবে প্রার্থনা জানাই।
শ্রীহরির চরণে পাই যেন ঠাঁই।।
(সংকলক:- কৃত্তিবাস ঠাকুর)
শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের মূল বন্দনা:-
জয় জয় হরিচাঁদ জয় কৃষ্ণদাস।
জয় শ্রীবৈষ্ণব দাস জয় গৌরীদাস।।
জয় শ্রীস্বরূপদাস পঞ্চ সহোদর।
পতিতপাবন হেতু হৈলা অবতার।।
জয় জয় গুরুচাঁদ জয় হীরামন।
জয় শ্রীগোলকচন্দ্র জয় শ্রীলোচন।।
জয় জয় দশরথ জয় মৃত্যুঞ্জয়।
জয় জয় মহানন্দ প্রেমানন্দ ময়।।
জয় নাটু জয় ব্রজ জয় বিশ্বনাথ।
নিজ দাস করি মোরে কর আত্মসাৎ।।
শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের মঙ্গলাচরণ:-
হরিচাঁদ চরিত্রসুধা প্রেমের ভান্ডার।
আদি অন্ত নাহি যার কলিতে প্রচার।।
সত্য ত্রেতা দ্বাপরের শেষ হয় কলি।
ধন্য কলিযুগ কহে বৈষ্ণব সকলি।।
তিন যুগ পরে কলি যুগ এ কনিষ্ঠ।
কনিষ্ঠ হইয়া হৈল সর্ব্বযুগ শ্রেষ্ঠ।।
এই কলিকালে শ্রীগৌরাঙ্গ অবতার।
বর্ত্তমান ক্ষেত্রে দারুব্রহ্মরূপ আর।।
যে যাঁহারে ভক্তি করে সে তার ঈশ্বর।
ভক্তিযোগে সেই তার স্বয়ং অবতার।।
হয়গ্রীব অবতার কপিলাবতার।
অষ্টাবিংশ অবতার পুরাণে প্রচার।।
মৎস্য কূর্ম্ম বামন বরাহ নরহরি।
ভৃগুরাম রঘুরাম রাম অবতরি।।
ঈশ্বরের অংশকলা সব অবতার।
প্রথম পুরুষ অবতার রঘুবর।।
নন্দের নন্দন হ’ল গোলোকের নাথ।
সংকর্ষণ রাম অবতার তাঁর সাথ।।
সব ঈশ্বরের অংশ পুরাণে নিরখি।
বর্ত্তমান দারুব্রহ্ম অবতার কল্কি।।
সব অবতার হ’তে রাম দয়াময়।
দারুব্রহ্ম দয়াময় কৃষ্ণ দয়াময়।।
পূর্ণব্রহ্ম পূর্ণানন্দ নন্দের নন্দন।
সেই নন্দসূত হ’ল শচীর নন্দন।।
যে কালে জন্মিল কৃষ্ণ পূর্ণব্রহ্ম নয়।।
পূর্ণ হ’ল যেকালে পড়িল যমুনায়।।
শচীগর্ভে জন্ম ল’য়ে না ছিলেন পূর্ণ।
দীক্ষাপ্রাপ্তে পূর্ণ নাম শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য।।
তখন হইয়া পূর্ণ সন্ন্যাস করিলে।
আটচল্লিশ বর্ষ পরে মিশিলা উৎকলে।।
সকল হরণ করে তাঁরে বলি হরি।
রাম হরি কৃষ্ণ হরি শ্রীগৌরাঙ্গ হরি।।
প্রেমদাতা নিত্যানন্দ তাঁর সমিভ্যরে।
হরিকে হরয় সেই হরিভক্ত দ্বারে।।
নিত্যানন্দ হরি কৃষ্ণ হরি গৌর হরি।
হরিচাঁদ আসল হরি পূর্ণানন্দ হরি।।
এই হরিচাঁদ লীলা সুধার সাগর।
তারকেরে কর হরি তাহাতে মকর।।
শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের প্রতি প্রণাম মন্ত্র:-
শ্রী শ্রী হরিচন্দ্রায় নমো নমঃ| শ্রী শ্রী হরিচন্দ্রায় সর্বভূতায় আত্মা রূপায় ভগবতে নমো নমঃ| ত্বমেক স্বয়ং নিজগুণেন (বলোকায়/বালিকায়) কৃপাংকুরু| নমো শ্রী হরিচন্দ্রায় জগৎ হিতায় সারাৎ সারায় জগদীশ্বরায় নমো নমঃ |
শ্রী শ্রী শান্তি মাতার প্রতি প্রণাম মন্ত্র :-
ওঁ নমো শ্রী শ্রী হরি প্রিয়া শান্তি দেব্যৈ নমো।
লক্ষ্মী স্বরূপিনী, সর্ব বিঘ্ন বিনাশিনী, শক্তি রূপিণী
রক্ত জবা সৌম্য কান্তি লোচন তনয়া, কমল লোচনা,
সর্ব মঙ্গলা, অশান্তি বিনাশিনী, শান্তি স্বরূপিনী,
কৈবল্য দায়িনী, মাতৃ রূপিনী, হরি ভক্তি প্রদায়িনী
